সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ

0
227

১১-১২ বছর বালিকা ক্যাটাগরিতে বিজয়ী রূপার হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর প্রধান ও সাঁতার ফেডারেশনের সভাপতি এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ।

রূপা। বিকেএসপির সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। কুষ্টিয়ার আমলায় বাড়ি। বাবা হোটেলের কর্মচারী। এনামুল আর রাব্বী ১২ বছরের বালক। জোয়েল আর রকিবুল ১৪ বছরের। বয়সে এর চেয়ে বড়রাও আছেন। গতকাল সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে দেখা মিলল ওদের। চোখে জ্বল জ্বল করছে স্বপ্ন। দেশ সেরা সাঁতারুদের পেছনে ফেলে একদিন বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন। রূপার কণ্ঠে বিশ্ব জয়ের দৃঢ়তা। আর লাজুক প্রকৃতির বালক রকিবুল নিজের লক্ষ্যে অটুট। একদিন ওরাই সাঁতারের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে এনে দিবে সোনার মুকুট!

13263906_665151683616528_6634794162897026527_n

নদীমাতৃক দেশে ব্রজেন দাসের মতো বিশ্ববিখ্যাত সাঁতারুর জন্ম তো হবেই। কিন্তু ব্রজেন দাসের উত্তরাধিকার বহন করার কেউ নেই এখন আর! এ উপলব্ধি থেকেই সুইমিং ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, এনডিসি, পিএসসি এক অভিনব প্রস্তাব করেন। সাঁতারে দেশের সেরা প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে হবে। ওদেরকে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খাঁটি সোনায় পরিণত করতে হবে। তবেই না আসবে সাঁতারে সাফল্য। এই ভাবনা থেকেই শুরু হয় ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইন। গতকাল মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন ও নৌবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার লোগো উন্মোচন ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. জাহিদ আহসান রাসেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ জাতীয় সাঁতার দলের দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ পার্কের চোখে-মুখে আলোর স্ফূরণ। তিনি সুইমিং কমপ্লেক্সের এ মাথা ও মাথা ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর ভবিষ্যৎ সাঁতারুদের পরখ করছেন অভিজ্ঞ জহুরির মতো। খানিকটা ফুসরত পেতেই বললেন, ‘এটা একটা অসাধারণ আইডিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া সাঁতারে কিছুই ছিল না। ২০০১ সালে এমনই এক ‘ন্যাশনাল ট্যালেন্ট হান্ট’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে। তার ঠিক পাঁচ বছর পর থেকেই আমরা সফলতা পেতে শুরু করি।

zahid-ahsan-russel

আমি মনে করি বাংলাদেশও অদূর ভবিষ্যতে সাঁতারে অনেক সফল হবে।’ পার্কের অধীনে কোচিং করে অনেক কোরিয়ান সাঁতারুই বিশ্ব মঞ্চে নাম উজ্জ্বল করেছেন। ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’ আয়োজন নিয়ে দারুণ আশাবাদী এক সময়কার দেশসেরা সাঁতারু তানিয়াও। তার মতে, এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ একদিন সাঁতারে সফল হবে। গতকাল সভাপতির বক্তব্যে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদও।

তিনি বললেন, ‘নৌবাহিনীর সাহায্যে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেরাদের খুঁজে বের করার। আশা করি এ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই আমরা সেরাদের খুঁজে পাব। আর একদিন ওরাই আমাদেরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতা এনে দিবে।’ তিনি সদ্য শেষ হওয়া এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী মাহফুজার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, ভবিষ্যতে সাঁতারে আরও সফল হবে বাংলাদেশ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এখন আর আগের মতো পুকুর নেই আমাদের দেশে। এ কারণে প্রতিটি জেলায় সুইমিং কমপ্লেক্স করা প্রয়োজন।’ এ ব্যাপারে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন বাংলাদেশের সাঁতারুরা অলিম্পিকেও স্বর্ণ জয় করবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীরেন শিকদার ও জাহিদ আহসান রাসেল। তারা উভয়েই অভিনব এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ ও সুইমিং ফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানান।

NO COMMENTS