গাজীপুরে চলছে সিটি কর্পোরেশনের নামে যানবাহন আটকিয়ে চাঁদাবাজি

0
520

 

ঈদ সামনে রেখে মহাসড়কে চাঁদাবাজরা বেপরোয়া। শুধু মহাসড়ক নয়, গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কেও চলছে চাঁদাবাজি। যানবাহনের চালকের কাছে চাওয়া মাত্রই চাঁদা না দিলে করা হয় শারীরিক নির্যাতন। প্রকাশ্যে পেটানোর ঘটনাও ঘটেছে। সোমবার দুপুরে মহানগরের পুবাইল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-উত্তরবঙ্গ রুটসহ বিভিন্ন রুটের যানবাহন থামিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। টঙ্গী মেডিকেল গেট, টঙ্গী থানা গেট, শিলমুন বাজার, মাজুখান বাজার, মীরের বাজার, পুবাইল কলেজ গেট, পুবাইল স্টেশন, পুবাইল বাজারসহ প্রায় ১৫টি পয়েন্টে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ইঞ্জিনচালিত যানস্ট্যান্ড ইজারাদারের কথা বলে প্রতিদিন যানবাহন থেকে রসিদের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ওই রসিদে ইজারাদারের নাম লেখা রয়েছে জাকারিয়া ও খসরু। চাঁদা আদায়ের জন্য মোড়গুলোতে নিয়োগ করা হয়েছে কিশোর ও যুবকদের। তারা লাঠি হাতে নিয়ে যানবাহন আটকিয়ে চাঁদা আদায় করছে। শফিকুল ইসলাম ও রানা হোসেন নামে দুই চালক অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে দেরি হলে কিংবা দিতে না চাইলে ওরা পিটুনি দেয়। পিটুনি খাওয়ার ভয়ে চাঁদা দিয়ে দেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাস, ট্রাক, মিনি ট্রাক, টেম্পো, ভটভটি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ২০-৩০ টাকা এবং যাত্রীবাহী বাস, মালবোঝাই ট্রাক থেকে ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া সিলেট থেকে আসা মালবোঝাই বাস-ট্রাক আটকিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছে তারা।

চাঁদা আদায়কারী একজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জয়দেবপুর থানার পুবাইল ফাঁড়ি পুলিশ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই বিভিন্ন পরিবহন থেকে রসিদ দিয়ে চাঁদা নিচ্ছেন। চাঁদার টাকা বড় বড় নেতার পকেটেও যায়। পুবাইল এলাকার জাকারিয়া জাকির ও খসরু নামে দু’জনের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে চলছে চাঁদাবাজি। এছাড়া পুবাইল মীরের বাজার এলাকায় অনেক দিন ধরে স্থানীয় মাসুদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি চক্র সিএনজি অটোরিকশা চালক ও মালিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছে। কাইয়ুম খন্দকার নামে একজন অটোরিকশাচালক বলেন, চাঁদাবাজির কারণে তারা অতিষ্ঠ। চাঁদার টাকা না দিলে অটোরিকশা আটক করে রাখা হয়।

খসরু বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন থেকে ৮ লাখ টাকা দিয়ে স্পট ইজারা নিয়েছি।’ তবে সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, পুবাইলে কাউকে কোনো চাঁদা উত্তোলন করার জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি। মীরের বাজার এলাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ছোট একটা জায়গা ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে চলন্ত গাড়ি থেকে কোনো চাঁদা আদায়ের জন্য নয়। সিটি করপোরেশনের সচিব আসলাম হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের নাম ব্যবহার করে সড়ক ও মহাসড়কে পরিবহন থেকে কেউ চাঁদা নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে পুবাইল ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোবারক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মীরের বাজার ও পুবাইল স্ট্যান্ড ইজারা দিয়েছে সিটি করপোরেশন। তবে চলন্ত গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

NO COMMENTS