শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর ছাত্রলীগ প্রথম প্রতিবাদ করে, স্মৃতিচারণায় নাজমুল

0
809

এক এগারোর সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর সারা বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিবাদ মিছিল করেছিল বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নবম কারা অন্তরীণ দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে লাইভে এক এগারোর স্মৃতিচারণায় তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মূলত এটিকে আমরা গণতন্ত্রের কালো দিবস বলে থাকি। আজ থেকে নয় বছর আগে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই মধ্য রাত থেকে আয়োজন শুরু হয়। সেদিন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলা চলছিল এবং বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ টিভিতে দেখতে পাই, সুধা সদনের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে। পরে খোঁজ নিতে শুরু করলাম’।

তিনি জানান, পরে সূর্যসেন হলের টিভি রুমে তারা কয়েকজন নেতা চলে আসেন এবং এক পর্যায়ে কনফার্ম হতে পারেন যে, শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হবে। এরপর তিনি ছাত্রলীগের তৎকালীন সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু এবং সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশার সঙ্গে ফোনে কথা হয় তার। তারা তাকে জানান, তোমরা থাকো, আমরা ক্যাম্পাসে আসছি। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত আলী শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করলে লিয়াকত আলী মেসেজ দেন, তোমরা থাকো, টিপু-বাদশা যাচ্ছে, কিছু একটা করতে হবে।

তিনি ঘটনার বর্ণনায় জানান, তৎকালীন আরও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি এবং টিপু ও বাদশাসহ কয়েকজন নেতারা আসার পর কলাভবনের পাশে ১৩/১৪জন জড়ো হন প্রতিবাদ মিছিল করার জন্য।

এসময় তিনি আরও কয়েকজনের নাম জানান, যারা প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবাদ মিছিল এবং মিছিল পরবর্তী সময়ের ঘটনার স্মৃতিচারণা করেন তিনি।

সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, ‘আমার স্মৃতি যদি আমার সঙ্গে প্রতারণা করে না থাকে, তাহলে সম্ভবত দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর সারা বিশ্বে আওয়ামী পরিবারে সকল সহযোগী সংগঠনের মধ্যে এটিই প্রথম এবং প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ ছিল। এজন্য আমি অবশ্যই গর্বিত’।

তিনি জানান, মিছিলটি ছিল আট থেকে নয় মিনিটের। মিছিল চলা অবস্থায় ভিসি চত্বরের সামনে র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ির অবস্থান থাকায় মিছিলটি সূর্যসেন হলের দিকে নেওয়া হয়। পরে মিছিলটি শেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলে আসায় টিপু ও বাদশাসহ সিনিয়ররা মিডিয়ার গাড়িতে চলে গেলেন আর অন্যরা হলে ঢুকে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেওয়া হয়।

‘হলের বাথরুমের পাইপ বেয়ে বেয়ে আমি ও মোস্তাক ভাই হল থেকে বেরিয়ে গেলাম অজানার উদ্দেশ্যে’। এভাবেই স্মৃতিচারণ করেন সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

মিছিলটি লাইভ হচ্ছিল বলে জানান তিনি।

ছাত্রলীগের বর্তমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। ভবিষৎ নেতাদের প্রতিও আমার এই আহবান যে, আপনার ঐক্যবদ্ধ থাকবেন’।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন এবং ছাত্রলীগ সবসময় পাশে থেকেছে, থাকবে।

সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে’।

তিনি বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন বলেও জানান।

ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘আজ যারা হাইব্রিডদের ভিড়ে হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছেন তাদেরকে বলব, আপনারা ঘরের কোণে বসে না থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। আমার বিশ্বাস আপা আপনাদের ফিরিয়ে দেবেন না। আপনারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন জননেত্রীকে আপনাদের কথা বলুন’।

‘মনে রাখবেন আমরা যারা ছাত্রলীগ করে এসেছি, যারা ছাত্রলীগ করছি তারাই ভালো থাকব। যারা হুট করে আওয়ামী লীগে এসে জেঁকে বসেছে তাদের দেখে হতাশ হবার কিছু নেই’, বলেন নাজমুল।

তিনি বলেন, যারা বর্তমানে হাইব্রিড বা নব্য আওয়ামী লীগারদের কারণে ঘরের কোণে রয়েছেন, তারা বের হয়ে নিজেদের তুলে ধরেন। ঘর থেকে বের হোন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান। আপনারা ঘর থেকে বের না হলে অন্যরা সুযোগ নিবে।

তিনি বলেন, যারা ফেসবুক, টুইটার, টকশোর রাজনীতি করেন, তারা আসলে বোগাস। কাজেই হতাশ না হয়ে আপনারা ঘরের কোণা থেকে বের হোন। প্রধানমন্ত্রীর সামনে আপনি সবকিছু বলেন, তিনি কাছে টেনে নিবেন, মমতাময়ী জননী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের সেই বিশ্বাস আছে।

তিনি সবাইকে দেশরত্ন শেখ হাসিনার পাশে থাকার আহবান জানান।

NO COMMENTS