চোখজুড়ানো গোলের পর লাল কার্ড

0
280

লিগের প্রথম ফ্রিকিকে গোল এলো আবাহনীর লি টাকের পা থেকে। কাল বিজেএমসির বিপক্ষে আকাশি-নীলের ১-০ গোলের জয়ও সেই গোলে। ম্যাচ জয়ের হিসাব বাদ দিলেও ইংলিশ ফরোয়ার্ডের এই গোল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের দর্শকরা মনে রাখবে নিশ্চিত। সেই লি টাককে দ্বিতীয়ার্ধে লাল কার্ড দেখিয়ে আবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন রেফারি জালাল উদ্দিন। তাতে কিছু সময়ের জন্য গ্যালারিতে উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়েছিল। তুলনায় মোহামেডান-ফেনী সকারের দিনের প্রথম ম্যাচ ম্যাড়মেড়ে। নিজেদের দীনতা আরো একবার তুলে ধরে দেশের ঐতিহ্যবাহী দলটি সকারের সঙ্গে করেছে গোলশূন্য ড্র।

গতি ফেরে আবাহনী-বিজেএমসির সন্ধ্যার ম্যাচে। আকাশি-নীলের তিকিতাকার বিপরীতে শুরু থেকেই বিজেএমসি খেলছিল প্রেসিং ফুটবল। ম্যাচের প্রথম সুযোগটাও বের করে ফেলে তারা। জাকির হেসেনের ক্রসে পোস্টের একেবারে কাছে দাঁড়িয়ে মাথা ছুঁইয়ে দিয়েছিলেন সোহেল রানা, বল ক্রসবার ছুঁই ছুঁই করে বেরিয়ে গেছে। এরপর স্যামসন ইলিয়াসুর থ্রু বলে সোহেল রানাই ফাঁকা পোস্ট পেয়ে গিয়েছিলেন, সামনে শুধু গোলরক্ষক। বল বেরিয়ে যাওয়ার পথে তিনি শুধু পা ছুঁইয়ে দিতে পারলেই চলত; কিন্তু আবাহনী গোলরক্ষক শহীদুল আলম আগেভাগে ঝাঁপিয়ে সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন। আবাহনী তেমন পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরির আগেই ৩৪ মিনিটে বক্সের পাঁচ-সাত গজ বাইরে ফ্রিকিক পেয়ে যায়। লি টাককে ফাউল করেছিলেন ইসা বাইবেক। ডান দিক থেকে সেই ফ্রিকিকে এ ইংলিশ স্ট্রাইকারেরই চোখজুড়ানো গোল। দারুণ মাপা শটে কাছের পোস্টের ওপরের কোণ দিয়ে তিনি বল জালে পাঠিয়েছেন। বিজেএমসি গোলরক্ষক তা নাগালেই পাননি।

দ্বিতীয়ার্ধেও দুই প্রান্তে আক্রমণ। পিছিয়ে পড়ে বিজেএমসি সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়। আবাহনী এই অর্ধে অনেকটাই রক্ষণাত্মক। লি’র লাল কার্ডের ঘটনা ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট ১৫ আগে। বিজেএমসির মিডফিল্ডার মোকলেসুর রহমানের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে রেফারি ছুটে এসে লি’কে হলুদ কার্ড দেখান। প্রতিক্রিয়ায় এ ইংলিশ ফরোয়ার্ড কিছু বলতেই জালালের পকেট থেকে সরাসরি বেরিয়ে আসে লাল কার্ড। অথচ ফাউলটি লি করেছেন নাকি মোকলেসই তাঁর পায়ে জড়িয়ে নিজে পড়ে গেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্তত মোকলেসকেই দায় দিয়েছেন আবাহনী কোচ। তবে দলের খেলায় তিনি পুরো সন্তুষ্ট না, ৩ পয়েন্টেই তাঁর যা স্বস্তি। চট্টগ্রাম পর্ব থেকে অন্তত ৭ পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারছে শিরোপাপ্রত্যাশীরা।

ওদিকে এ ৭ পয়েন্টের আশাতেই মোহামেডানের সংগ্রহ মাত্র ২। রহমতগঞ্জের পর ফেনী সকার-মোহামেডান কাউকেই হারাতে পারেনি। মাঝে চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে হেরে তাদের চট্টগ্রাম পর্ব সাড়া। গতকাল ফেনী সকারের বিপক্ষে ১ পয়েন্ট প্রাপ্তি না বলে হতাশাই বলা ভালো। কারণ এ ম্যাচে আগের ম্যাচের সাদা-মাটা মোহামেডান জ্বলে উঠবে বলেই মাঠে নেমেছিল; কিন্তু গোলশূন্য ড্রয়ে তাদের শুধু অক্ষমতাই প্রকাশ পেয়েছে।

পুরো ম্যাচে মোহামেডান গোল তো দূরের কথা কোনো সুযোগও তৈরি করতে পারেনি। ফেনী সকারকে বরং হুমকি মনে হয়েছে, সাদা-কালোর পোস্টের সামনে। তাদের দুই বিদেশি ফরোয়ার্ড উচে ফেলিক্স ও থুয়াম ফ্রাংক সারাক্ষণ ত্রস্ত রেখেছেন মোহামেডান ডিফেন্সকে। অন্য প্রান্তে ইসমাইল বাঙ্গুরা হয়েছিলেন একাকী দ্বীপের মতো। ম্যাচের ১০ মিনিটেই সকারকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন ফ্রাংক, ফেলিক্সে চমত্কার বাড়ানো থ্রুটিতে তিনি কোনাকুনি শটও নিয়েছিলেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি পোস্টঘেঁষে বেরিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের জনির বাড়ানো বলে প্রায় ফাঁকা পোস্টে শট নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন বিপলু; কিন্তু তিনি বলটা পোস্টেই রাখতে পারেননি। তাতেই স্কোরলাইন ০-০। সকার কোচ লাডি বাবা লোলা ম্যাচ শেষে বলেছেন, তাঁর দল জেতার মতো অবস্থায়ই ছিল। মোহামেডান কোচ জসীম উদ্দিন জোসি যদিও তা মানতে চাননি।

তবে চট্টগ্রামের দর্শক এদিন একটি নিষ্ফলা ম্যাচই দেখেছে। আর মোহামেডানের খেলায় দেখেছে পুরনো ঐতিহ্যের আর ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই।

আবাহনী : শহীদুল; মামুন, সামাদ, তপু, আরিফ; প্রাণতোষ (ফাহাদ), ইমন, লি টাক; সানডে, জুয়েল, নাবিব (হেমন্ত)। বিজেএমসি : আরিফুজ্জামান; তারা, স্যামুয়েল, বাইবেক, শোয়েব; মোকলেসুর, শঙ্কর,, জুলফিকার; জাকির, সোহেল।

মোহামেডান : নেহাল; বিশ্বনাথ, ল্যান্ড্রি, রানা, আশিক; ইয়াইয়া, মাসুক, ওমর ফারুক (জামাল), বিপলু (সিফাত); আমিনুর, বাঙ্গুরা। ফেনী সকার : সুজন; জহিরুল, কামারা, ইফতেখার, ইমরান; সুশান্ত, শাহরান (মাহবুব), ওমর ফারুক, ফেলিক্স; আকবর (চৌম্রিন), থুয়াম ফ্রাংক।

NO COMMENTS