টঙ্গীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি পণ্য

0
366

নাঈমুল হাসান, টঙ্গী (গাজীপুর) : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গীতে নামে ৬টি ও বেনামে ২৫টি বেকারি রয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ বেকারির বিরুদ্ধে নীতিমালা না মেনে নোংরা পরিবেশে ভেজাল ও নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে খাদ্য সামগ্রি তৈরির অভিযোগ রয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্য নীতিমালা অনুযায়ী বিএসটিআই, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন নিয়ে বেকারি চালু করার কথা থাকলে ও বাস্তব অবস্থায় তা সম্পূর্ন বিপরীত।

এছাড়া প্যাকেটের গায়ে বাধ্যতামূলকভাবে পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখার কথা থাকলে ও তা মানা হচ্ছে না।পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে পণ্য উৎপাদনের কথা থাকলে ও কোন বেকারি মালিকই তোয়াক্কা করছেন না।তাছাড়া বেকারি গুলোতে বেশির ভাগ খাবার তৈার হচ্ছে শিশুদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়-টঙ্গীর ষ্টেশনরোড এলাকার আরিফ বেকারি,বউবাজার এলাকার বি-বাড়িয়া, টঙ্গী বাজার এলাকায় আকলিমা ফুড, কলেজ গেইট এলাকায় নিউ আলামিন, সিলমুনের সেভেন স্টার, করমতলা এলাকার আনন্দ ফুড বেকারিসহ কয়েকটি কারখানার ভেতরে দেখা গেছে, উৎপাদিত খাবার পণ্য খাবার হয়েছে আটা, ময়দার গোডাউনে।

এর পাশেই রয়েছে বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ ও একাধিক পাম ওয়েলের ড্রাম। এছাড়া শিশু শ্রমিকরা খালি পাঁয়ে এসব পণ্যের পাশ দিয়ে হাঁটাহাঁটি করছে।

আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাতকরণ কড়াই গুলো ও রয়েছে অপরিষ্কার ও নোংরা। ডালডা দিয়ে তৈরি ক্রিম রাখার পাত্রগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি উড়তে দেখা গেছে। মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ছাড়াই বাহারি মোড়কে ভরা হচ্ছে পাউরুটি, কেক, বিস্কুট, পুডিংসহ বিভিন্ন পণ্য। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাসহোরা দিয়ে বেকারি চালিয়ে আসছেন বলে জানান একাধিক বেকারি মালিক। তবে এসকল প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই না থাকলে ও লাগানো হচ্ছে বিএসটিআই এর নকল সিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বেকারি শ্রমিক জানান- দিনের বেলায় কারখানা বন্ধ রাখা হয়, সন্ধার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত চলে উৎপাদন কার্যক্রম এতে ভ্রাম্যমান আদালত, র‌্যাব, পুলিশের জামেলা এড়ানো সম্ভব হয়।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে করা এসব খাদ্য সামগ্রী খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে হতে পারে। মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর এসব ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো.আরসাদ হোসেন সাদ বলেন, যেসব কারখানা অস্বাস্থ্য ও নোংরা পরিবেশে ভেজাল খাদ্য তৈরি করছে তাদেরকে খাদ্য আইনে সংশোধন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।

অপরদিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কে এম জহিরুল আলম গাজীপুর ট্রিবিউনকে জানান, যে সকল প্রতিষ্ঠান নিয়ম না মেনে খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

NO COMMENTS