ছাত্রলীগ করতে টাকা লাগে————–???

0
219

এক নেতার কাছে গিয়ে বলা হল ভাই কিছু টাকা লাগবে?
নেতা কেন?
ভাই আগামীকাল ২৬ মার্চ আমরা ছাত্রলীগের সবাই মিলে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করবো ;সেই শোভাযাত্রায় বঙ্গবন্ধু, সাতজন বীর শ্রেষ্ট, জাতীয় চার নেতা,দেশরত্ন শেখ হাসিনা,লাল সবুজের পতাকা সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন,হ্যান্ড লিফলেট বানিয়ে প্রত্যেক টি নেতা কর্মীর হাতে হাতে দিয়ে সারিবদ্ধ ভাবে শোভাযাত্রা শুরু করবো।।।
নেতা হু এতে কি ভোট বাড়বে?
কর্মী ভোট বাড়বে কি না জানি না ভাই তবে স্বাধীনতা এই জিনিস টা কত বড় কত মহৎ এটা যদি এই প্রজন্মের সন্তানেরা না জানে তাহলে এই স্বাধীনতা পূর্ণতা পাবে না নেতা–থাম এত জ্ঞান দেওয়া লাগবে না এসব আমি বুঝি,বুঝলে?

নেতা কত টাকা লাগবে?
কর্মী কত আর এই ১৫০০০/ টাকার মত নেতা।
নেতা এত টাকা? এই এপিএস কই রে! ওদের পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে দে—-

ছাত্রলীগ করতে এত টাকা লাগে?

১৫/২০ জনের টিম টা টাকাটা নিয়ে খুব কষ্টে ঘর থেকে বের হল;সকলেই খুব হতাস হয়ে গেল নেতার আচরনে।

পিছনে দাঁড়ান এক কর্মী বলে উঠলো ভাই এই সেদিন এই
মহান নেতা এক নেতার মেয়ের। বিয়েতে একটি গাড়ী উপহার দিয়েছে যার মূল্য ৩০ লক্ষ টাকার মত।

আজ আমাদের ভিক্ষুকের মত পাঁচ হাজার টাকা ভিক্ষা দিল——-?

কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও তার কর্মীরা হাটতে হাটতে এসে কলেজ গেটে বসলেন সকলের মন টা খারাপ কি করবে কি বলবে কিছুই বুজতে পারছে না—

ছাত্রলীগ করতে টাকা লাগে—–!!!

সভাপতি দুপুরে খেতে যাবেন কিন্তু সঙ্গে থাকা প্রায় ১৫/১৬ জনের টিম কেউ ই সরে না, বললে ও যাচ্ছে না
অবশেষে যেতে যেতে ৫ জনে এসে ঠেকলো।পাঁচ জনে লামছাম খেয়ে ২৫০ /টাকা বিল।

সন্ধ্যার দিকে গেটে আড্ডা দিতে হয় ;চা, বিস্কুট, টুকটাক এটা সেটা খেয়ে(কেউ কেউ সিগারেট ও খাই) সব শেষে বিল কত ভাই —-?

ভাই ২৫ টা চা, পাঁচ টা সিগারেট, ১০ টা বিস্কুট সব মিলিয়ে প্রায় ২০০/ টাকার মত ভাই;

সভাপতি হাটা শুরু করলে সবাই ও তাকে অনুসরণ করলেন সকলে চলে গেলে ও একজন গেলেন না।
সভাপতি তাকে বললেন কি হয়েছে তোর কোন সমস্যা?

শফিক মাথা নিচু করে আছে! বল কি হয়েছে? কি হল বল কি সমস্যা?
ভাই কাল কে ফরমফিলাম মোট ৫৫০০/ টাকা লাগবে বাবা খুব কষ্ট করে ৩১০০/ টাকা পাঠিয়েছে ;ভাই আমার একটা খুব প্রিয় ছাগল ছিল তাই বিক্রি করে পাঠিয়েছে
আমি কি করবো ভাই—–!!!
সভাপতির মনটা খারাপ হয়ে গেল শফিক কে বুকের ভিতর টেনে এনে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো যা আল্লাহ্‌ ভরসা—–!

সভাপতি মাথা নিচু করে হাটতে হাটতে রাতে না খেয়ে শুয়ে পড়ল —-
পকেটে সব মিলিয়ে পাঁচশত টাকা কি করবো——–?
কাল কে আবার এমপি মহোদয়ের শালীর দেবরের বোনের মেয়ের বিয়ে সেখানে ও তো দামী গিফট লাগবে
কি যে করি! ওহ!কি রাজনীতি তে আসলাম রে মাইরি!

হঠাৎ প্রিয়সখীর ফোন! সভাপতি তাকে বললেন কত টাক আছে তুমার কাছে? কেন? দরকার —–

৪০০০/ এর মত ;ওকে কালকে সকালে তিন হাজার টাকা দিও;
২৫০০/ টাকা শফিক কে দিয়ে বলল নে তোর ফরমফিলাম কর;আর মন দিয়ে পড়ালেখা করবি কোন
ভয় নাই আল্লাহ্‌ আছে তো——ভয় কিসের!যা—–

দুপুরে দাওয়াত মনে পড়তেই আাকাশ কে ফোন! আকাশ তোদের শাড়ীর দোকান আছে না?জি ভাই, আকাশ প্লিজ একটা দুই/তিন হাজার টাকা মূল্যের শাড়ী তোর বাবা কে বলে এনে দিবি আমি সামনে সপ্তাহে টাকা দিতাম —!
প্লিজ ভাই এটা কেউ যেন যানে না বুজিস তো মানসম্মান এর ব্যাপার———-
ওকে ভাই কোন সমস্যা নাই আমি আনছি আপনি টেনশন নিয়েন না—–

বিকালে হঠাৎ রিমনের ফোন ভাই একটা কথা বলবো?
বল, রাগবেন না তো?না বল—-;
বাড়ী থেকে এই মাসে ২৫০০/ টাকা দিছে এদিকে এমএ পরীক্ষার ডেট দিছে কিন্তু একটা বই ও কিনা হয় নি—-;

ওকে তুই কখগ বুক হাউজে গিয়ে আমাকে ফোন ধরিয়ে দে আমি বলে দিচ্ছি ;ঠিক আছে ভাই।

কি রে সেক্রেটারি ফোন! ভাই রাতে সাবেক ছাত্রনেতার জন্মদিন অনুষ্ঠান আছে আপনি আমি আমন্ত্রিত ——

ও আচ্ছা ঠিক আছে।

রিফাত এসেছে ভাই কালকে নগরে প্রোগ্রাম আছে উপস্থিতি সর্বোত্তম হতে হবে ;ট্রাক দিয়েছে পাচ টা।

ট্রাক দিছে টাকা দেয় নাই?হা ভাই দিছে দুই হাজার।
দুই হাজার?হায়রে পাঁচশ কর্মীর খরচ দুই হাজার?
কত বড় মন্ত্রী আসতেছে কত টাকার কাজ পাশ করিয়ে নিবে আর আমাদের মিছিল, আমাদের শোডাউন, আমাদের লোকবল আমাদের খরচ দুই হাজার——?
আল্লাহ্‌ তুমি কই!

ভাই তাহলে যাবেন না? (———)গালি দিয়ে না গেলে পদ থাকবে?

মনির এসেছে আগামীকাল শুক্রবার তার সেকশন অফিসার পদে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা ;এমপি /মন্ত্রী/বড় নেতার কাছে ওকে নিয়ে সুপারিশ করতে হবে।

এপিএস কে ফোন দেওয়া হল সাত বারেরবার রিসিভ করলেন ;বস আছেন ভাই?হা আছে ,ওকে ভাই।

ভাই এর নাম মনির ও আমার কমিটির সভ-সভাপতি ও খুব ভাল ছেলে বিরোধী দলে নির্যাতিত, শিবির কর্তৃক আহত ও হয়েছিল ওর পরিবারের অবস্থা খুব ভাল না ওর একটা চাকুরী খুব দরকার;প্লিজ বস একটু দেখবেন!

আমি এবার পারবো না আমার ভায়ের মেয়ে আছে এবার তাকে দিতে হবে——-
আরেক নেতা বললেন ঠিক আছে যাও আমি ভিসি কে ফোন দিবো নি ,আরেক নেতা বললেন রিটেনে টিকে আস————-

২৬ মার্চ সকালে শোভাযাত্রা শুরু হল ;হওয়ার কথা ১০ টায় শুরু হল ১১.৩০ মিনিটে কারন লোকবল নাই।অবশেষে কোনমতে শত খানেক নেতা কর্মী মিলে শুরু করা গেল বটে তবে সামনের লাইনে ই দাড়াল প্রায় ৪০ জন নেতা———-

বিকালে সভাপতি সেক্রেটারি সহ প্রায় দুইতিনশত নেতা কর্মী এক সঙ্গে বসে আছে——–
হঠাৎ শহরের সবচেয়ে বড় নেতার ফোন——–!

ভাই আসসালামু আলাইকুম ;ওলাইকুম আসসালাম।আজ রাতে পার্টি অফিসে বর্ধিত সভা তুমি ও তুমার কলেজ ছাত্রলীগ সকলে থকবে।

উপস্থিত সকলে বুঝে গেল আজ কপালে শনি আছে!
শোভাযাত্রায় ছাত্রলীগ সকলে অনুপস্থিতির কারনে তাদের প্রোগ্রাম ফ্লপ!

সন্ধ্যায় পার্টি অফিসে সকল নেতা উপস্থিত;সকলের চক্ষু লাল!
প্রথমেই প্রায় চারপাচ জন নেতা ছাত্রলীগ কে ধুয়ে দিল ;যা খুশি তাই বললেন ;কি আত্বচিৎকার—–!!!

মাইকে সভাপতির নাম ঘোষণা হল ;কারণ দর্শাও!কি কারনে ছাত্রলীগ আসে নি—–
সবাই কে বাইরে দাড়ীয়ে সভাপতি যথা নিয়মে তার বক্তৃতা শুরু করলেন ————
————————-
প্রিয় শ্রদ্ধেয় নেতারা আপনারা সকলের বুকে হাত দিয়ে চক্ষু বন্ধ করে দেখুন তো কতদিন একটা ছাত্রলীগের ছেলে কে ডেকে এনে এক মুট ডাল ভাত খেতে দেন নি?

কত দিন কত জন কে এক সেট বই কিনে দেন নি?

কত গরীবের ছেলে টাকার জন্য ফরমফিলাম করতে পারেনা তার খোজ খবর নেন নি?

নিজের বিবেক কে প্রশ্ন করে দেখুন গত কয়টা ঈদে এই এতিম ছেলেদের কে কি উপহার দিয়েছেন—–!

এক টুকরো মাংশ?
এক পিরিচ সেমাই ডেকে এনে পরম মমতায় খাইয়েছেন?

আপনার পিছনের শক্তি, সাহস,ক্ষমতার উৎস মিছিল মিটিং এর সঙ্গী এই বঙ্গবন্ধু প্রেমিক ছেলে গুলি সুখ দুঃখের খোজ খবর নিয়েছেন?

যে ছেলে গুলি মুজিব প্রেমিক, যে ছেলেগুলি শেখ হাসিনার নিরাপত্তার রক্ষী সেই ছেলেগুলির চাকরি চাইতে গেলেই রিটেন রিটেন করেন—–?

টাকা চাইতে গেলে এত টাকা কোথায় লাগে?

এই যে আমি সবাই কে নিয়ে এই প্রোগ্রামে এসেছি
এদের সবার খরচ আমি দিবো কিন্তু আপনারা তো যে যার মত চলে আসেন ;আমরা পারিনা।আমরা খেতে গেলে ও একা খাই না,ঘুরতে গেলেও একা যায় না—
আমরা এক কেজী গোশ কিনে দশ/পনের জনে ও খাই আপনারা ঘরের দরজা আটকিয়ে পরিবার নিয়ে খান!

এটাই কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ? এটাই কি শেখ হাসিনার নির্দেশ?
কথায় কথায় আপনারা কিছু নেতারা খালি বলেন আপনাদের সময় এত টাকা লাগতো না—————-;
তাহলে আমরা যদি বলি তখন কার আওয়ামীলীগ নেতাদের ও এত দামী গাড়ী বাড়ী ছিল না————-;

দল ক্ষমতায় ৮ বছর এখন ও শত শত ছাত্রলীগের নেতা কর্মীর চাকুরীর জন্য হাহাকার——————!!!

মিছিল মিটিং শেষে এক কাপ চা, একটা তিন কোনা সিংগাড়া র নিশ্চয়তা দিতে পারি না;
নবীণ বরণ,ক্লাসরুটিন দেওয়ার মত টাকা থাকে না
আমি কিসের ছাত্রনেতা?
আমি কিসের সভাপতি?
আমার ছেলেদের বই কেনার নিশ্চয়তা কই?

আমাদের উপস্থিতি মিছিল কে বড় করে, আপনাদের চলার পথ প্রশস্ত করে আর আমার ছেলের চোখের পানি শুখাতে থাকে——-!!!

ছাত্রলীগ করতে টাকা লাগে!————-!!

বেগম মুজিব শাড়ীর আচল থেকে জমানো টাকা ছাত্রলীগ কে দিতেন;কারন বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগ কে সন্তানের মত ভালবাসতেন;দেশ গড়ার কাজে লাগাবে বলে—–
ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন কে সত্যি করেছেন—-

আপনারা ও ভালবাসুন আপনাদের ১৬ আনা এনে দেওয়ার জন্য এই ছাত্রলীগ একাই যথেষ্ট——-

শুভ কামনা রইলো সকল ছাত্রলীগের বীর সেনানীদের জন্য———

টাকা ছাড়া ৪৮ থেকে এ পর্জন্ত যখন আসতে পেরেছে বাকী জীবন ও পারবে———-

কারন ছাত্রলীগের বড় শক্তি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ।।
সংগৃহীত :………

NO COMMENTS